বাজার করতে যাওয়াটা আমার কাছেসবচেয়ে বিরক্তিকর একটা ব্যাপার, সেটা এখনই হোক আর আজ থেকে ১০ বছর আগেই হোক, বরাবরই এ বিষয়টার প্রতি একটা অনীহা ছিলই। কেউ যদি বলেন না পারলে এমন অনীহা হবেই, আমি সত্যকে মাথা পেতে নেব। আসলেই বাজারে গিয়ে দরাদরি, কোনটা ভাল কোনটা মন্দ সেটা বাছবিছারের ক্ষমতা নাই বললেই চলে।

তো কিছুদিন আগে আমার মা, তিনিও গাল মুখ ভারী করে বসে আছেন এবং অনবরত তার বড় সন্তানকে বাজার সদাইয়ের উপদেশ দিয়েই চলেছেন, কে শোনে কার উপদেশ, এ কান দিয়ে শুনছি আর ও কান দিয়ে বের করছি, যেহেতু মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করছি তাই কাউকে সন্তুষ্ট কিভাবে করতে হয় তা ভালভাবেই জানা, মা-কেও সেভাবে ম্যানেজ করছি।

অবশেষে একটি বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে গমন। সাদাই বেশী কিছু না মাত্র ১ কেজি আলু ক্রয় করতে হবে।
কার্য যথাযথ সম্পাদন করে প্রত্যাগমন। বাসার সবাই এমন ভাব ধরেছিলেন যেন আমি বহুকিছু উদ্ধার করে বাসায় ফিরছি।
যাই হোক যে যে কাজ জানেনা তাকে যতই তালিম দেয়া হোক তা কি ভালভাবে হয়? আমারও তাই হল ১ কেজি আলুর মধ্যে প্রায় অর্ধেকেই পঁচা এবং নষ্ট। মা - তো রেগে ফুলে ফেপে হা-পিত্যেশ করছে।

তোর কি চোখে বাজারে আর আলু পড়েনি ? কি এনেছিস?
- মা, অনেক ঘুরলাম, শেষে দেখি একটা ঝুড়িতে এই কয়টাই আলু ছিল, নিয়ে নিলাম, বেচারা ! এই কয়টার জন্য না জানি কতক্ষন বসে থাকে তাই তাকেও রেহাই দিলাম আমারও কেনা হল
এটা কোন যুক্তি হল !
- না, যুক্তি একটা আছে। আমার মার্কেটিং পলিসি এখানে এপ্লাই করেছি। আলু গুলো দেখ উপরের দিকটা কি ফিটফাট দেখে মনে হয় ভিতরের অবস্থা এমন, সেটা বড় কথা না, বড় কথা হচ্ছে যখন পুরো বাজার ঘুরে দেখি অনেকের বস্তা বস্তা আলু পড়ে আছে, একই রকম একটু মোটা তাজা অথচ বিক্রি নাই, তার মানে কি লোক সেখানে তেমন যাচ্ছেনা, অথচ এই লোকের একটা ঝুড়িতে এই কয়টাই বাকী ছিল, তার মানে লোকজন এরটা বেশী কিনতেছে, ভাবলাম যেহেতু পাবলিক টানছে তার মানে এটাই বেস্ট।

মা, আমার মন বোঝানো, আলু ক্রয়ের ভূয়া মার্কেটিং পলিসির কাহিনী শুনে কিছু না বলে সোজা কাটা পঁচা আলুগুলো পুনরায় প্যাকেটে ভরে আমার হাতে দিয়ে ফেরত দিয়ে আসতে বললেন, আরও বললেন টাকা ফেরত আনার দরকার নাই।

মায়ের আদেশ শিরোধার্য, বাজারে যাওয়া হল সেই লোককে আর খুজে বের করা সম্ভব হলনা। পাবই বা কিভাবে আমিই তো ছিলাম সর্বশেষ কাষ্টমার।


প্রথম প্রকাশ - somewhereinblog.net
২৯শে মে ২০০৭, সকাল ৯:৫১