কাল রাতে যখন বাসায় পৌছি, ছোটটা কম্পিউটারে তখন একটা মুভি দেখছিল – কি সব হিন্দী – বাংলা সিনেমা। শার্টটা খুলে সোফায় শরীরটা আয়েশী করে যখন মনিটরে চোখ রাখছিলাম বেশ পুলকিত সুখানুভব করলাম। কত দ্রুত ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে, নায়কের সাথে নায়িকার এত তাড়াতাড়ি পরিচয়ে প্রেম-ভালবাসা তারপর ধুম-ধারাক্কা গানে রঙ্গিলা নাচ। মারামারি, হুড়োহুড়ি, কোটিপতি-ফকির হল, ফকির-রাজা হল। বাহ! বেশ লাগছিল, বুঝে উঠতে পারছিলাম না ছোটটা এসব অবাস্তব কিছু দেখে কি মজা পাচ্ছে। ওকে তিরষ্কার করতে খেয়াল ছিলনা, বরং মাথার ভিতর ভন ভন করছিল ইস ! যদি সিনেমার মত বাস্তবে কোন চরিত্র পাওয়া যেত, এত অল্প সময়ে একটা নায়িকাও পেয়ে যেতাম আবার হিরো-ও হয়ে যেতাম।

-   এতো গেল রাতের কথা …

 

সকালে অফিস ছিল দেরীতে কিন্তু জরুরী কিছু কাজ থাকায় ন’টার আগেই চলে এলাম। কেউ ছিলনা আমি অফিসে একা। রাস্তার ভীরে জ্যামে যাচ্ছেতাই অবস্থা। খুব তেষ্টা পাচ্ছিল, পানির বদলে ডাব আনতে বললাম। তৃপ্তি পাওযা গেল বেশ।

 

অফিসে বেশ কিছু জমানো কাজ ছিল, মোবাইলের কাজটা ছিল বেশী তাড়া। ভাবলাম একজনের সাহায্য নিয়ে করে ফেলব তা আর হলনা, এদিকে যে কয়জন সহকর্মী নিহত হয়েছেন তাদের কম্পেন্সেশনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে আর কিছুই করা হল না। যাক তবুও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ তো হল !

 

লাঞ্চ তো একটু দেরীতেই করি, কাল মেনু ছিল ইলিশ মাছ কিন্তু অপেক্ষাকৃত ছোট বিধায় আমার পক্ষে আর কাঁটা বেছে খাওয়া সম্ভব হলনা, অগত্যা পুটি মাছ দিয়ে বাকীটুকু সারতে হল।

 

কে একজন জানি এসে বলে গেল বাহিরে নাকি মেঘ হয়েছে বৃষ্টি হতে পারে, উল্লাসে লাফাতে ইচ্ছে করছিল। না থাক, সংবারণ করলাম এই ভেবে অফিস থেকে ফেরার পথে যদি বৃষ্টি হয় তাহলে রাস্তায় ভেজা যাবে। কিন্তু এবার মেজাজের টেমপারেচার-টা হাই হয়ে গেল তখন, যখন রাতে পথে বেরুলাম সে তো রীতিমত মরুভূমির মত গরম (অবশ্য মরুভূমিতে যাবার কোন অভিজ্ঞতা নাই), মনে হচ্ছিল ওই বেটাকে যদি পাওয়া যেত, ইচ্ছে করে কষে দিতাম।

 

অবশ্য এবার খুব ভাল হল, দূর থেকে দেখলাম একটা দোতলা সরকারী বাস এপথেই আসছে, পুরো বাসটাই খালি। দৌড় দিয়ে বাদাম মামুর কাছ থেকে বাদামের ঠোঙ্গাটা নিয়েই সোজা বাসের হ্যান্ডেল। উপরে উঠতেই দেখি একদম ফাঁকা ময়দান, ব্যাস সামনের খোলা জানালা দেখে বসে পড়লাম। বেশ ফুরফুরা মেজামে বাদাম চিবুতে চিবুতে পৌছে গেলাম বাসায়।

 

নতুন একটা অভ্যেস হয়েছে ইদানিং, বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসার রাস্তায় প্রতিদিন কাউকে না কাউকে ফোন করব, কথা বলতে বলতে বাসা পর্যন্ত। কাল কথা বললাম আমাদের পুরনো একজন কলিগ, সাবিকুন নাহার ম্যাডামের সাথে।

 

বাসায় পৌছানোর কিছুক্ষণের মাথায় চলে গেল ইলেকট্রিসিটি। ব্যলকনিতে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে কখন যে চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল ছিলনা, মা পর ডেকে খেয়ে সোজা বিছানায়।

 

ব্যাস..