১৬ এপ্রিল, ২০০৯ - বৃহসপতিবার
কাল সকালটা বিশ্রী রকম অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু,
সকাল থেকেই পানি ছিলনা, পানির এ সমস্যাটা গ্রীষ্মকালে ঢাকাবাসীর জন্য রীতিমত এক ভয়াবহ
অভিজ্ঞতার ব্যপার। যাদের আছে তাদের তো বলার অপেক্ষা রাখেনা কিন্তু যে এলাকায় নতুন এ
সমস্যা যোগ হয়েছে তাদের ভোগান্তিটা বেশী। যেমন আমাদের এ এলাকায়, প্রায় ৫বৎসর আছি এর
আগে কখনো এরকম সমস্যা হয়নি। এবারই প্রথম। সত্যি বলতে দোষ নেই, বাড়ীওয়ালী যিনি, তার
গাফিলাতিও যথেষ্ট।
যাই হোক, কাল যে অফিসে দেরীতে পৌছুবো তা
তো আগেই বুঝে গিয়েছিলাম, কারণ বেরই হয়েছি দেরীতে, কিন্তু পানির না থাকার বিরক্ত কাটাতে
না কাটাতেই যে চরম কোন বিরক্তিকর আরো কিছুর মধ্যে পড়তে যাচ্ছি তা জানা ছিলনা। প্রচুর
যাত্রী কিন্তু বাস তুলনায় নগন্য। কোন রকম শরীরটাকে বাসের মধ্যে ঠাই দেয়ার সুযোগ করে
নিলাম। কিন্তু যে পরিমাণ জ্যাম রাস্তায় সিদ্ধ হবার যোগাড়। বাসে এত্ত মানুষের ভীড়ে চ্যাপ্টা
তো হচ্ছি প্লাস গরমে অস্থির।
তবুও অফিসে পৌছালেই শান্তি, মনে হয় এ গরমে
অফিসে থেকে যেতে পারলেই ভাল হত। সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশন্ড স্পেসে না আছে বিদ্যুত চলে
যাবার ভয় না পানির সমস্যা, এদিক থেকে বাসায় থাকবার পরিবর্তে অফিসেই বেষ্ট। সেরকমটা
এ গরমে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।
কাল অফিসটা বেশ ভাল ভাবেই কেটেছে, কোন রকম
সমস্যা তো হয়নি সময় যে কিভাবে চলে গেল টেরই পাইনি।
বাসাতে যখন ফেরা হয় রাত তখন প্রায় আটটা
ত্রিশ। পৌছা মাত্রই ইলেকট্রিসিটি চলে গেল। কেমন লাগে বলুন ? অবশ্য একটি বিষয় ভেবে খুব
ভাল লাগছিল আমার এক মামা আসবেন খুলনা থেকে। আমাদের শাহরিয়ার মামা। মজার কথা হল এই মামাকে
বাস স্ট্যান্ড থেকে রিসিভ করে আনতে হবে কিন্তু আমাদের দেখা নেই প্রায় বার কি তের বছর।
অনেক লম্বা সময়, আর এত দিন চেহারা মনে করাটাও মুশকিশ। শুধু হাসি পাচ্ছিল কেমন রিলেশনশীপ
বন্ড চেহারাও পর্যন্ত ভুলে যেতে বসেছি।
যাক গে, অবশেষে তিনি এলেন- রাতে আর মজা
হলনা। খুব ক্লান্ড ছিলাম কখন শুয়েছি আর ঘুমিয়েছি টেরই পাইনি। টের পেলাম তখন যখন ভোরে
মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙল।
আবার শুরু হল নতুন দিনের প্রস্তুতি …