রোজনামা - ২০ এপ্রিল, ২০০৯ (সোমবার)
আজ সোমবার - ২০ এপ্রিল, ২০০৯
আজ সকালটাতেও নিজে থেকে ঘুম ভাঙ্গাতে পারিনি,
মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গল। অনেকদিন পর একটা প্রাসঙ্গিক চিন্তা মাথায় ভর করল। সামনে পরীক্ষা
অথচ ঠিক করে পড়াশোনা শুরু করা হচ্ছেনা। পড়ার টেবিলটার দিকে তাকালেই মনে হয় আজ থেকেই
শুরু করব, কোন বাধাই কেউ আমাকে থামাতে পারবেনা। অথচ দেখা যায সেদিনও শুরু করা হয়না।
কিন্তু আজ সকালের প্রতিজ্ঞাটা এমন আজ করবই। যাই হোক এই ভেবেই দিন শুরু করি।
একটা ব্যপারে খুব আলসেমী আছে, আলসেমী বললে
বেশী ভূল হবে ক্ষানিকটা ইচ্ছেও আছে অল্প খোঁচা খোঁচা দাড়ি রেখে দেই, সে কারণে সপ্তাহে
বড় জোড় দুবার, আর এমনিতেই আমার খুব ঘন দাড়ি নই, তারপরেও দাড়ি কামাতে একটা আলসেমী কাজ
করে। কিন্তু না আজ কামাতেই হবে। সপ্তাহের প্রথম অফিস আজ, এভাবে না কামিয়ে যাওয়াটা ঠিক
হবেনা, অগত্যা কামাতেই হল।
অফিসে যে আজ এভাবে সময় যাবে সেটা বাসের
ভেতরই টের পেলাম, আমার বন্ধু প্রিন্টিং-এর ব্যবসা করে, ওকে পারচেজের ডিজিএম সাহেবের
সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে, ওরই ফোন পেলাম বাসের ভেতর। অফিসে পৌছতেই ও এসে হাজির, এর
মধ্যে আমার এডমিন এজিএম এ বস্তা সিভি ধরিয়ে দিয়ে বাছাই করতে বললেন, তাও এক্ষুনি, আবার
ওদিকে যে সাতজন আগুনে মারা গিয়েছিল তাদের ফাইলগুলোও রেডী করতে হবে, তাও এক্ষুনি, …
সব যদি এক্ষুনি হয় তাহলে পরে কোনটা হবে।
এর মধ্যেই, সামহোয়ারইন, ফেসবুক, সিনথাসাইট
.. একে একে চেক করে নিলাম। সময় কিভাবে দ্রুত চলে যাচ্ছে বুঝতেই পারছিনা। যখন যোহরের
আযান দিল তখন খেয়াল হল এর মধ্যে একটা বেজে গিয়েছে। নামাজ পড়লাম দেরীতে।
বিকেলের দিকটাতে এজিএম আর আমি একসাথে বসে
নিহতদের আর্থিক সহায়তার ফাইলগুলো রেডী করলাম। তার মাঝে এর বিল বাকী, এর এ কাজের রিকোয়েষ্ট
করে দিতে হবে, ওর টেলিফোনে হাই হ্যালো তো আছেই।
যাই হোক শেষ বিকেলে প্রত্যাশা একটাই, সকালে
যেমন ছিটেফোটা বৃষ্টি হচ্ছিল সন্ধ্যায়ও তেমন জানি হয়, কমপক্ষে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ী ফিরলেও
কোন দোষের নেই।
এখন শুধু বৃষ্টির অপেক্ষায় ….. আর বাড়ী
ফেরার পথে ……….