আজ শুক্রবার – ২৪এপ্রিল, ২০০৯

 

এমনিতেই গত কয়েকদিন ধরে আমাদের এলাকা কল্যাণপুরে পানির সমস্যা চলছিল। সারাদিন অফিস শেষে রাতে ফিরে আবার নীচের ট্যাংকি থেকে পানি তুলতে কষ্ট হলেও সবার কষ্ট দেখে নিজেরটা না হয় ভুলে থাকা গেল। কিন্তু কাল রাতে যখন বাসায় ফিরি দেখি অবস্থা তুলকালাম।

 

পানির সমস্যা তো আর এমনি এমনি মিটে যাবেনা, তার উপর কিছু চেষ্টা তো থাকা উচিত। আমাদের বাড়ীওয়ালীনির সে চেষ্টাটুকুও নেই, শুধু ভাবখানা এমন মুখেই সব। কাল দুপুরে নাকি বাবা বাড়ীওয়ালীনির উপর প্রচন্ড রাগারাগি করেছেন, অনেক চিল্লাপাল্লা করেছেন। বাবা অসুস্থ, প্যারালাইসিস হয়ে যাবার পর থেকে এমনিতেই সারাদিন বাসায় থাকতে থাকতে একপ্রকার একঘেয়েমী কাজ করে আবার গরমে, বিদ্যুতহীন পরিস্থিতিতে আরো অস্বস্তি বোধ করছে।

 

কাল রাতে যখন এসব কথা শুনছিলাম, বাবার উপর একবার কিছুটা রাগ হলেও তার সামনে প্রকাশের কোন শক্তি ছিলনা, কারণ অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আজ পাঁচ বছরের বেশী সময় চলছি, এখন আর রাগ করে লাভ নেই।

 

এমনও পরিস্থিতি নেই যে, বাসা বদল করব, কারণ ছোটটা আমার দুজনের বেতনে এই বাসা ভাড়া দিয়ে থাকা, খাওয়া চলা বড্ড অসম্ভব, তবুও আল্লাহর রহমতে কোন রকমে দিন পার করছি বেশ ভাল ভাবেই। তবুও এভাবে এখানে আর থাকাটা বড্ড কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তবুও আম্মুকে বললাম দেখি সামনের মাস থেকে বাসা দেখব, ভাল পেয়ে গেলে চলে যাব। এই বাসাটা একদিক থেকে খুব সুবিধার, যেমন রাস্তার উপর তেমনি খোলামেলা। এখানে প্রায় হয়ে গেল চার বছর।

 

অফিসে আমার জিএম আর আমি আর একজন অফিসার শুধু শুক্রবার থাকেন। অন্য কেউ নয়। জিএম ডাকলেন, ভাল মন্দ জিজ্ঞেস করলেন, স্যারকে বললাম দু:খ কষ্টের কথা। স্যার খুব টানেন। টেলিফোনেই একটা পার্ট টাইম জবের ব্যবস্থা করলেন। অফিস শেষে আর রবিবার বন্ধের দিন ফুলটাইম। ভালই হল।

 

আসলে এই সময়ে একটা বাড়তি কাজ আসলেই দরকার…