রোজনামা - ১৯ এপ্রিল, ২০০৯ (রবিবার)

April 20, 2009

আজ রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০০৯

 

 

এমনিতেই আজকের এ দিনটার জন্য সপ্তাহের ছয়টা দিন অপেক্ষা করি। কারণ খুব সিম্পল, আজ আমার উইকলি হলিডে। অফিসের ব্যস্ততার মাঝে এই একটা দিনই হাফ ছেড়ে বাঁচা যায়। ইচ্ছে থাকে, নিজের মত করে দিনটি কাটাব। সে উপায় কি আছে? শনিবার রাতেই মা জানিয়ে দিয়েছিলেন আজ ব্যাংকে যেতে হবে। মাসের প্রায় মাঝামাঝি এর মধ্যে সব শেষ। বাকী দিনগুলি চলার জন্য ব্যাংকে যাওয়া ছাড়া তো কোন গতি নেই। এ ভাবেই ধার-দেনা, তোলা তুলির মাঝ দিয়েই মাসের সবকটা দিন কোন না কোনভাবে পার করতে হয়।

 

১০টার দিকে ব্যাংকের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হই। রাস্তায় যে এত্ত গরম আসলে অফিসে থাকলে কিছু বোঝা যায়না। আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। ক্যান্টনমেন্টে যেতে চাইনা একটা কারণে, গাড়ী-ঘোড়া খুব কম। যা দু-একটা আসে তাতে মানুষের চাপও অনেক বেশী। অল্প সময়েই কাজ সেরে যখন ব্যাংক থেকে বেরুচ্ছিলাম তখন এ কথাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, আজ বোধহয় ভাগ্য-ও অনেক সুপ্রসন্ন। বাসও পেয়ে গেলাম তাড়াতাড়ি।

 

কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ডে যখন পৌছালাম, খুব তেষ্টা পেল। পানি বলতে নরমাল ড্রিংকিং ওয়াটারকেই প্রিফার করি। ওই সব কোল্ড ড্রিংকস, সফট্, হার্ড এগুলো তেমন পছন্দ না। তবে, একটা জিনিস এ গরম আর শীত যে বেলাই বলি না কেন, তা পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। আইসক্রিম। এই একটা বিষয়ে সুখ্যাতি আছে কেউ কোনদিন আইসক্রীমের অফার দিয়ে কাউকে নিরাশ করিনি। একটা আইসক্রীম নিয়ে রিকশাতেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তখন যোহরের আযান হচ্ছে।

 

সকালে যখন বাসা থেকে বের হই, মা’কে বলেছিলাম পড়ার টেবিলটা আগে যে জাগাতে ছিল ওখান থেকে সরিয়ে যেন জানালার কাছে সরিয়ে রাখেন। ফিরে দেখি মা’য়ের পারফেকসনটা চমতকার হযেছে। কম্পিউটার টেবিলটা আবার নতুন করে সরাতে হলেও এবারের ঘরের সেটিংসটা বেশ হয়েছে।

 

দুপুরের খাবার খেলাম বেলা সাড়ে তিনটায়। প্রতি রবিবারই এরকমটা হয়। একটু দেরী হয়ে যাই। যেহেতু আজ আমার মুভী ডে, একটা মুভী দেখতে হবে। The Deal – দেখা শুরু করলাম। শেষ করতে করতে রাত হল। মোটামুটি ভাল লাগল।

 

সন্ধ্যা থেকেই প্রচন্ড মাধা ধরেছে। আগের দিন নীচ থেকে পানি তুলতে তুলতে হাতে মাসল সব ব্যাথা। শরীরটাও যথেষ্ঠ দূর্বল।

 

রাত যখন একটা বাজে, শুতে যাচ্ছি, তখন ইলেকট্রিসিটি চলে গেল। কি করব। বারান্দাতে হেডফোনটা লাগিয়ে রেডিওটা শুনতে লাগলাম। আজকাল যে কয়েকটা এফএম বেরিয়েছে সারাদিন মাতিয়ে রাথে। রাতের ওই রেডিও শোতে তিনজন আরজে ছিল। বেশ মজা করছিল সবার সাথে। কিছু কিছু ইনসালটিং বিহেভিয়ার খারাপ লাগলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হয়নি। সবচেয়ে মজা লাগল যে কয়টা ফোন আসল রেডিও শো’তে বেশিরভাগই মেয়েদের। এক মেয়ে তো রীতিমত এক আরজে কে আই লাভ ইউ বলে বসল। কি হুলস্থূল অবস্থা সে সময়।

 

অবশেষে দুটো বাজে ইলেকট্রিসিটি এলে শুয়ে পড়লাম। তারপর এক স্বপ্ন দেখলাম …. অনেক সুন্দর স্বপ্ন।

 

১৮ এপ্রিল, ২০০৯ - শনিবার

April 18, 2009